প্রচ্ছদ

নির্বিগ্নে চলে আলো-আধারের অনৈকিত খেলা
নিরাপদ ডেটিং স্পট সিলেটের মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুডের দোকান

০১ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫১

অপরাধ বাণী

মবরুর আহমদ সাজু অথিতি প্রতিবেদক : সিলেট নগরীর মিনি চাইনিজ, ফাস্টফুড দোকান আর অভিজাত রেষ্টুরেন্টের আড়ালে নির্বিগ্নে চলছে ডেটিং সহ অসামাজিক কার্যকলাপ। ফলে দিনে রাতে এসব রেষ্টুরেন্টে বাড়ছে বিভিন্ন বয়স কপোত কপোতির আনাগোনা। অনেকে এসব হোটেল রেষ্টুরেন্টকে অসামাজিক কাজের নিরাপদ স্থান হিসাবে বেঁেচ নিচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে গড়ে উঠছে মৃদু আলো-আধারির ছোট-ছোট কেবিন সম্বলিত অসংখ্য চাইনিজ রেস্তুরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ ব্যবসা চললেও তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। কারণ কতিপয় ব্যবসায়ীদের সাথে রয়েছে গোপন চুক্তি। প্রশাসনের বড়কর্তাদের নজরদারী না থাকা বিপথগামী হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সী তরুণ-তরুনীরা, তবে পিছিয়ে নেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডের গ্রিণল্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বারুতখানা মোড়ে ক্যাফে অর্ক, ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, ফেট বেলি, ফুড প্যালেস, পিপার্স রেস্তুরা, জিন্দাবাজার চিয়াং মাই চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, স্পাইসি, ইষ্টিকুটুম চাইনিজ, আম্বরখানা এলাকার হাবিব রেস্তুরা। এসব রেস্তুরায় দিবা-রাত্রির চলে আলো-আঁধারির খেলা,কেবিনগুলো যেন মধুকুঞ্জ ভরপুর। দিন দিন নগরীতে গজিয়ে উঠছে নামে বেনামে বৈধ-অবৈধ মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুডের দোকান। বাইরে ফিটফাট- ভিতর সদরঘাট হওয়ায় ভেতরে কি হচ্ছে তার খবর আর কেউ রাখে না। তবে উল্টো হয়রানীর ভয়ে এসবের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেন না কেউ। কয়েক বছর আগে আল-হামরা শপিং সিটির সামনে এক চায়নিজ রেস্টুরেন্ট অসামাজিক কার্যকালাপের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে ছিলেন। বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টের ভেতরে ছোট-ছোট কেবিন তৈরি করা। সেগুলোতে আবার পৃথক কপাট (দরজা) আছে। ভিতর থেকে সে কপাট আটকানো যায়। বাহির থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এসবের ভেতরে কি আছে। এই সুযোগে এসব রেস্তুরায় গলাকাটা দাম নেওয়া হচ্ছে। এসব রেস্টুরেন্টের প্রধান আয় আগতদের কাছে থেকে পাওয়া ‘ওয়েটিং বিল’।স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ তরুণ-তরুনীরা ‘ওয়েটিংয়ের’ নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়ে থাকে। আম্বরখানাস্থ হাবিব রেষ্টুরেন্টে মিনি কেবিন বানিয়ে ঘন্টা ভিত্তিক চুক্তিতে ভাড়া দেয়া হয়, অসামাজিক কাজের জন্য। বারুতখানাস্থ ফুড প্যালেসে রয়েছে আলো আধাঁরের সু-ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে যুগল নিয়ে আসলে প্যাকেজ করে খেতে হবে। শুধু তাই নয়, এসব রেস্টুরেন্টের মালিকরা যুগলদের নির্বিগ্ন নিরাপত্ত্বা দিয়ে থাকেন। এখানে কেবিনগুলোতে যুগলরা বুকিং নেন ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা করে। ক্যাফে অর্ক, ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, ফেট বেলি, ফুডপ্যালেস, পিপার্স ম্যানেজাররা জানিয়েছেন তাদের রয়েছে সিসিটি টিভির সু-ব্যবস্থা। তবে এসব রেষ্টুরেন্টে ঘন্টা হিসেবে নেয়া হয় ৫শ থেকে ১হাজার। খাবার না খেলেও নির্ধারিত সময়ের টাকা দিতে হয়। সিলেট আম্বরখানা গার্লস কলেজ ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. শামিম আহমদ জানান, খাবারের রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে‘ ভেতরে ঢুকলেই ভিন্ন পরিবেশ। জোড়ায় জোড়ায় বসা তরুণ-তরুণী। বেশিরভাগই লিপ্ত অসামাজিক কর্মকান্ডে। পরিবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিব্রত হন সাধারণ ভোক্তা। মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্ট ফুড ব্যবসার আড়ালে অবৈধ আলো-আঁধারির রেস্টুরেন্ট ব্যবসা বর্তমানে জমজমাট হয়ে ওঠেছে। এ বিষয়ে সিলেট বিএম কলেজের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম এটাকে ‘বদহজম’ উল্লেখ করে বলেন, এসব বন্ধ করার জন্য আমাদের রেগুলেটরি এজেন্সি ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে সচেষ্ট হতে হবে। পাশাপাশি আমাদের মূল্যবোধ ও সচেতনতাকে জাগ্রত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসএমপি মিডিয়া কমিনিকেশন অফিসার এসপি জেদান আল মুসা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তালিকা করে মাঠে নামছে পুলিশ। চালাবে নিয়মিত অভিযান। অভিযানে যাদেরকে স্পটে পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, হোটেলের কথা বলতে পারবো তবে রেস্টুরেন্ট এসব হচ্ছে আমি জানি না এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম ? তবে শিগ্রই এ্যাকশনে যাবো আমরা।



এ প্রতিবেদনটি .439 বার পঠিতসংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares