প্রচ্ছদ

প্রশ্ন ফঁসের খবর যেনো সত্যি না হয়

০৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:২৭

অপরাধ বাণী

সম্পাদকীয় : সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলছে । জানা গেছে, এবার ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৭৮ হাজার ৪৫১ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। উদ্বেগজনক হল, প্রতিবারের মতো এবারও অসাধু চক্র প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় অর্থ হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ধারাবাহিকতায় ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ পাচ্ছে। গুজব যাতে সত্যে পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যে জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে- কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস সম্ভব নয়। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কথায় আস্থা রাখতে চাই।দেশে ইতিপূর্বে পিইসি-জেএসসি, এসএসসি-এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, বিভিন্ন চাকরি; এমনকি প্রাথমিক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ মচ্ছব আমাদের একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, আর তা হল- দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা আসলে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? স্বস্তির বিষয়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। প্রশ্ন ফাঁস কেবল অপরাধ নয়, একইসঙ্গে নৈতিকতাবিরোধী- এ বোধ প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে জাগ্রত করা জরুরি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে আমরা মূলত জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছি। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়- যে কোনো মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা।দুঃখজনক হল, প্রশ্ন ফাঁসের মতো একটি দুষ্কর্ম বহু বছর ধরে সংঘটিত হলেও এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। দেখা গেছে, প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রকে ‘ম্যানেজ’ করে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে সম্পৃক্ত করে প্রশ্নফাঁসের মতো অপকর্মটি করা হচ্ছে। প্রশাসনযন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিয়ম মানা ও আইন প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আন্তরিক না হয়, তাহলে কোনোদিনও দেশ থেকে নৈরাজ্য দূর হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বেকারত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যেমন তামাশা করা হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্তও পাকা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, পরীক্ষাব্যবস্থাকে হরিশংকরের গোয়াল বানিয়ে ফেলার বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলা হয়েছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই- শুধু এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নয়; ভবিষ্যতে দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা আর ঘটবে না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী ও তৎপর হবেন, এটাই প্রত্যাশা।



এ প্রতিবেদনটি .64 বার পঠিতসংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares