প্রচ্ছদ

গোলাপগঞ্জের সেই ছিনতাইকারী কাউসার যখন সাংবাদিক

০১ জুন ২০১৯, ২৩:০৯

অপরাধ বাণী

গোলাপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে দুই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।উপজেলার পৌর এলাকার খাসিখাল ব্রিজ সংলগ্ন রনকেলী উত্তর গ্রামের মৃত আওলাদ আলীর পুত্র সেলিম হাসান কাওছার উরফে কাওছার হোসেন (৩০) ও মাহবুব হোসেন (২৮) এর বিরুদ্ধে একই এলাকার বিশিষ্ট ফল ব্যবসায়ী খয়ের উদ্দিন (৬৫) বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করেন বলে বাদির বরাত দিয়ে দৈনিক সিলেটের দিনকালেরের প্রতিবেন প্রকাশ করে।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন- কাওছার তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে আসছে। এবার তিনি বেশ ক’টি লিচুর বাগান ক্রয় করায় কাওছার ও মাহবুব বিভিন্ন ধরনের হয়রানী মূলক আচরণ ও চাঁদা দাবী করায় তিনি নিরুপায় হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।গত ২২ মে তিনি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করলে পুলিশ কর্মকর্তা ইউসুফ আহমদ এর প্রেক্ষিতে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।মামলার এজাহারে বাদী আরো উল্লেখ করেন- কাওছারের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নানা অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিশেষ করে ৬/৭ বছর পূর্বে কাওছার সিলেট নগরীর উপশহর থেকে মটরসাইকেল চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার পথে জনগণ তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করলে বেশ কিছুদিন জেল খেটেছে। এছাড়া সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশীট হয়েছে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়- বাদী খয়ের উদ্দিনকে গত ১ মে বিবাদী পক্ষ খাসিখাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে ১৮ মে কাওছার তার কাছে অনুরূপভাবে ঐ টাকা দাবী করে বলে যদি ঈদের পূর্বে টাকা না দেয়া হয় তাহলে ফরমালিন যুক্ত লিচু বাদী বিক্রি করছেন বলে তার বিরুদ্ধে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। এ বিষয় নিয়ে ঐ দিন তর্কাতর্কি শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়।সিলেটের দিনকালে আরো বলা হয়, ঘটনার সাক্ষী সেলিম আহমদ জানান- কাওছার ফল ব্যবসায়ী খয়ের উদ্দিনের কাছে তার সামনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেছেন, এ সময় খয়ের উদ্দিন অপারগতা প্রকাশ করলে কাওছার নানা ধরনের হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে ফল ব্যবসায়ী খয়ের উদ্দিন অবহিত করলে কেউ এর দায়িত্ব নিতে চায় না।সেলিম হাসান কাওছার নিজেকে কখনো সিলেটের, কখনো গোলাপগঞ্জের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। তার রয়েছে কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ তদবির চক্র। তারা সংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন অফিসে টাকার বিনিময়ে তদবিরও করে। রমযানের কিছুদিন আগে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় এমনি এক তদবির করতে গেলে তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্ন দেখে তখনকার ডিউটি অফিসার এসআই আঁখি তাদের আসতে বলেন। পরে সিলেটের সিনিয়র মহিলা এসআই আঁখির বিরুদ্ধে তারা লেখালেখি করে। বলেন এসআই আঁখি। কেউ এই তদবির চক্রের প্রতারণা ধরে ফেললে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হওরানি করার অভিযোগও রয়েছে।অপরদিকে অভিযুক্ত কাওছারের সঙ্গে সিলেটের দিনকাল প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে এ ঘটনার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দিলিপ কুমার নাথ জানান- কাওছারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সিলেট শাহপরান থানা ও গোলাপগঞ্জ থানায় কাওছারের বিরুদ্ধে অতীতে মোটরসাইকেল চুরি ও সন্ত্রাসীর অভিযোগে মামলা এবং চার্জশীট হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

সূ্ত্র : দৈনিক সিলেটের দিনকাল



এ প্রতিবেদনটি .727 বার পঠিতসংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares