প্রচ্ছদ

এসআই সুদীপের আত্মহত্যা : ফেঁসে যাচ্ছেন ওসি জলিল : চলছে মামলার প্রস্ততি (আপডেট)

০৩ জুন ২০১৯, ২১:০৮

অপরাধ বাণী

বিশেষ প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল জলিলের বাড়ি টাংগাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায়। তিনি বর্তমানে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত আছেন। সিলেট রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৮ বছর থেকে চাকুরী করছেন তিনি। একের পর এক বির্তকৃত কর্মকান্ড করলেও তদবীরের ঠেলায় বরাবরই রক্ষা পেয়ে যান তিনি। কর্মস্থলে তার রয়েছে বির্তকৃত কর্মকান্ডের নানা রকম অভিযোগ। যে থানায় ওসি আব্দুল জলিল চাকুরী করেছেন, সেখানেই তিনি নিজেই সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি রাখতেন। ২০১৪ সালে জৈন্তাপুর থানায় থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে ছিলো থানা হাজত থেকে আসামী ছেড়ে দেওয়া, অফিসারদের সাথে খারাপ আচরণ, নারী কেলেংকারী, থানার হাজতের ভিতরে আসামী রহস্যজনক মৃত্যুসহ নানা রকম অভিযোগ। চিকনাগুল আর হরিপুর এলাকার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন তিনি। সেই বিরোধের জেরে হরিপুরের লোকজন চিকনাগুল বাজারের আগুন দিয়ে কয়েকটি দোকান পুড়িয়ে দিয়েছিলো। ঐ ঘটনাসহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগে জৈন্তাপুর থেকে তাকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। ২০১৮ সালের ২৭ মে গোয়াইনঘাট থানায় তিনি যোগদানের আগে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানা থেকে এবং সুনামগঞ্জের দিরাই থানা থেকে একই ভাবে বদলী হয়েছিলেন। সেখান থেকে তদবীরের ঠেলায় পোষ্টিং হয় গোয়াইনঘাট থানায়। সেখানে যোগদানের পর তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। জাফলং এলাকায় রয়েছে ওসি আব্দুল জলিল আর থানার দারোগা জুনেদ আহমদের একাধিক সিন্ডিকেট। হাদারপারের আব্দুল্লাহ জাফলং নয়াবস্তির সেলিম,আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠে শক্তিশালী একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। ওসি আব্দুল জলিল ও তার বিশ্বস্থ্য দারোগার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ থানার সকল পুলিশ সদস্য। জেলার উর্ধ্বতন অফিসারদের তেমন একটা গুরুত্ব দিতেনা তিনি ওসি জলিল, কারণ রেঞ্জ ডিআইজি কামরুল আহসানের সাথে তার রয়েছে গভির সম্পর্ক। তার তার প্রভাব আর ভাবটা একটু বেশী ছিলো। গোয়াইনঘাট থানায় জলিল থানায় যোগদানের পর এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী কনস্টেবল ওসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে জেলা পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়। কিন্তু এতো অভিযোগের পর ওসি আব্দুল জলিলেল পালে শাস্তির হাওয়া লাগেনি কোন সময়ে। চলতি বছরের প্রথম দিকে স্থানীয় এমপি প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে খুশি করতে রাতে বাসায় পাঠিয়ে ছিলেন ট্রাকভর্তি উপঢৌকন। মন্ত্রী এসব গ্রহন না করে বিষয়টি নিয়ে হাটে-হাড়ি ভাঙ্গে দেন। কারন তিনি একজন সত মানুষ হিসাবে সব সময় এসবের উর্ধে থাকতে চান। সর্বশেষ শনিবার বিকালে তার দুর্ব্যবহার সইতে না পেরে সুদীপ বড়–য়া (৪৫) নামে থানার একজন সৎ পুলিশ অফিসার আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় সুদীপের পরিবার ওসি আব্দুল জলিল ও দারোগা জুনেদ আহমদকে আসামী করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর সুদীপের লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সোনাইচড়ি গ্রামের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে সুদীপের স্ত্রী ববি বড়–য়া অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী সুদীপ হত্যা বিচার চাই। ওসি জলিলের জন্য আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। তারা সুদীপ হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সুদীপের মেয়ে শতাব্দি বলেন,‘থানায় মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে’ বাবা আত্মহত্যা করেছেন,‘বাবা প্রায়ই ফোন করে বলতেন। সর্বশেষ শনিবারও বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি তখনও বলেছেন, এ থানায় তিনি আর থাকতে চান না। এদিকে, এসআই সুদীপের আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে সুদীপের পরিবার আইনি আশ্রয় গ্রহণ করলে তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ওসি আব্দুল জলিল মামলার বিষয়টি বুঝতে পেরেই নিজেকে বাঁচানোর জন্য তদবীর শুরু করে দিয়েছেন। কারণ পুলিশের উপর মহলের কিছু কর্তাব্যক্তির সাথে রয়েছে সু-সম্পর্ক।
এদিকে সুদীপের আত্মহত্যা বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি থানার ভিতরের কোয়ার্টারের ঘরের জানালার সাথে ঝুলে কি করে আত্মহত্যা করতে পারেন। কারণ সুদীপের দুটি হাতই জানালার লোহার রডের সাথে রয়েছে লাগানো। থানা কম্পাউন্ডের ভিতরে কি করে একজন এসআই আত্মহত্যা করতে পারে তাও দিনে দুপুরে, থানার কনেষ্টবল কিংবা বাকি এসআইরা কোথায় ছিলো? বিষয়টির সঠিক তদন্ত এখন সময়ের দাবী, তার আগে ওসি আব্দুল জলিলকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে সঠিক তদন্তের দাবী করেন সুদীপের পরিবারের সদস্যরা।



এ প্রতিবেদনটি .1478 বার পঠিতসংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares