খাঁটিবান- ইউ/পি বাধ বলতে কিছু নাই
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাচনে শীর্ষে পলাশ

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>খাঁটিবান- ইউ/পি বাধ বলতে কিছু নাই</span> <br/> কানাইঘাট উপজেলা নির্বাচনে শীর্ষে পলাশ

বিশেষ প্রতিনিধি : রাত পোহালেই সকাল থেকে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, বাকি আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলবে বিরতীহিন ভোট গ্রহণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আবার উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী থাকলেও জসিম নামের এক প্রার্থী রবিবার ভোটবর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৩ জনই হেভিয়েট প্রার্থী। তারা সকলেই সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে। দলীয় প্রতিক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের উপদেষ্টা আব্দুল মোমেন চৌধুরী। আনারস প্রতিক নিয়ে উদিয়মান ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খায়ের উদ্দিন চৌধুরী।
তিনজন প্রার্থী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় উপজেলায় দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারা তিন ভাবে বিভক্ত হয়ে নেমেছেন ভোট যুদ্ধে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছতে শুরু করেছে। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা হলে তাদের সহজ সরল উত্তর, লড়াই হবে এবার ত্রিমুখি। ৮ নং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করছেন খায়ের চৌধুরী তার প্রতিক আনারস। এ ইউনিয়নের তিনিই লিড করবেন বলে ভোটারদের অভিমত। কিছু ভোট পড়বে নৌকা ও মটরসাইকেলের বাক্সে।
৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে কোন প্রার্থী না থাকায় সকলের নজরই এই ইউনিয়নের দিকে। এখানে লড়াই হবে আনারস প্রতিক বনাম মটরসাইকেল মার্কার। তবে নৌকা তেমন একটা পিছিয়ে থাকবেনা এই ইউনিয়নে। নৌকার নির্ধারিত ভোট এবার ভাগাভাগি হবে। হওয়ায়, সাধারণ ভোটারদের জরিপে এগিয়ে আছেন মস্তাক আহমদ পলাশ
৭ নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউ ইউনিয়নে হবে ত্রিমুখি লড়াই তবে এখানে সুবিধা জনক স্থানে রয়েছে আনারস মার্কা। কিছু ভোট যাবে নৌকা ও মটর সাইকেলের বাক্সে।
৬ নং সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বাড়ি হওয়ায় এখানে ভাল অবস্থানে আছে নৌকা মার্কা। তবে এই ভোটে কিছুটা ভাগ বসাবে মটর সাইকেল।
৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের ভোটের হিসাব এবার ভিন্ন। এ এলাকায় জমিয়তের ঘাটি থাকায় তাদের ভোট নিয়ে চলছে হিসাব নিকাশ। তবে সমানে-সমান লড়াই হবে মটর সাইকেল বনাম নৌকা মার্কার। এ ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের তেমন একটা হাকডাক নেই।
৩ নং ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে মটর সাইকেল তবে এখানে আনারস তেমন প্রভাব না ফেললেও নৌকা কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।এছাড়া ৪ নং সাতবাক ইউনিয়নে মটরসাইকেলের ধারে কাছেই নেই কেউ, কারণ এই ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান পলাশই এবার উপজেলা নির্বাচন করছেন মটর সাইকেল প্রতিক নিয়ে। এখানে নৌকার ২য় অবস্থানে রয়েছে।
২ নং পশ্চিম লক্ষীপ্রাসাদ ইউনিয়নে লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে মটর সাইকেল। তবে এখানে লড়াই হবে মটরসাইকেল আর নৌকার মধ্যে।
১ নং লক্ষীপ্রাসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এবার লড়াই হবে ভিন্ন কারণ সেখানে ভোটাররা এবার পলাশের পক্ষেই করছেন হিসাব নিকাশ, সেখানে পাথর কোয়ারী থাকায় ব্যবসায়ীরা ও শ্রমিক নেতারা অনেকটা পলাশের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
এ দিকে পৌরসভার প্রায় ৮ জন কাউন্সিলার পলাশের মটর সাইকেলের পক্ষে দিনরাত মাঠে কাজ করছেন। ফলে এখানে সুবিধজনক স্থানে রয়েছে মটর সাইকেল। পাশাপাশি অবস্থানে রয়েছে নৌকা মার্কা। এ ভাবে সর্বশেষ জরিপ মতে লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন মস্তাক আহমদ পলাশ।
পলাশের এগিয়ে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভোটারগণ বলেন, পলাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যর সাথে সম্পর্ক ভাল থাকায় উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে রয়েছে তার হাতের উন্নয়ন।
বর্তমানেও তিনি এ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদারের আস্থাভাজন হিসাবে ভোটারদের কাছে পরিচিত। তার নির্বাচনী প্রচারণা কালে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতীক নেতৃবৃন্দ যেমন, বিএনপি, জামায়াত, খেলাফত মজলিস, জমিয়ত, জাতীয়পার্টিকে পলাশকে প্রকাশ্য দিয়েছেন সমর্থন।তাই নিরব ভোটেই তিনিই বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা বেশী রয়েছে।
অপর দিকে নৌকার সমর্থকরা মনে করছেন এবার উপজেলায় তারাই বিজয়ী হবেন বিভিন্ন ইউনিয়নের রয়েছে তাদের ব্যাপক ভোট ব্যাংক। আর তাদের প্রার্থী মোমিন সাহেব সাদা মনের মানুষ হওয়ায় সকলের কাছে রয়েছে তার গ্রহণ যোগ্যতা।
আবার আনারসের প্রতিকের সমর্থকরা মনে করছেন তাদের প্রার্থী উদিয়মান ছাত্র নেতা হওয়ায় জনপ্রিয়তায় তিনি এই দুই প্রার্থীে চেয়ে এগিয়ে আছেন। অপরদিকে এবারের নির্বাচনে কানাইঘাট পশ্চিম এলাকায় তিনিই একক প্রার্থী থাকায় তার বিজয় নিশ্চিত। কেউ তাদের বিজয় ঠেকাতে পারবেনা।
ভোটারগণ আরো বলেন, খাঁটিবান কিংবা ইউনিয়ন ভিত্তিক ঐক্যর মতো এমন কোন কিছু ঘটেনি বা ঘটার সম্ভাবনা নেই। সাধারণ ভোটাররা নিজ-নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচনের দিন উপজেলার দু একটি কেন্দ্রে অপ্রিতিকর ঘটনার আশংখ্যা করছেন স্থানীয় ভোটারগন। তবে এ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন নির্বাচনে কেউ কোন অপ্রিতিকর ঘটনার সৃষ্টি করলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই দলের কিংবা যে মতেরই হউক।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
769Shares

দেশ বিদেশের সবগুলো অনলাইন পত্রিকার লিংক

বাংলাদেশের সকল টিভি চ্যানেল

ভিজিটর কাউন্টার

  • ৮৪৮
  • ২৯২
  • ৩৫৬,২৫৭