ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পা হারাতে বসেছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আরমান

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৯

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পা হারাতে বসেছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আরমান

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে পা হারাতে বসেছেন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সৈয়দ আরমান হোসেন (১৮)। শুধু তাই নয় আরমানের জীবন নিয়ে শঙ্কিত চিকিৎসক। আরমানের বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার ১০নং মিরাজী বড়াব্দা গ্রামে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ ইদ্রিস আলী। গত ২১শে জুন বাড়িতে কাজ করার সময় দায়ের আঘাতে আরমানের পায়ের গোড়ালির সামান্য অংশ কেটে যায়। ওই দিনই বিকালে আরমানকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেদী হাসান আরমানকে দেখে ওষুধ লিখে দেন এবং হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মহিবুর রহমানকে দিয়ে আরমানের কাটা জায়গায় সেলাই ও হাঁটু পর্যন্ত ব্যান্ডেজ করিয়ে নেন। রোগী আরমানকে তিন দিন পর ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে বলেন ডাক্তার মেহেদী।ব্যান্ডেজ নিয়ে বাড়িতে আসার পর আরমানের গায়ে প্রচণ্ড জ্বর ও পায়ে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। দু’দিন পর স্বজনরা পুনরায় আরমানকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ডা. মেহেদী হাসানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডাক্তারদের কোনো সাড়া না পেয়ে সৈয়দ আরমানকে পার্শ্ববর্তী বদরুন্নেসা প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বদরুন্নেসার চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম পায়ের ব্যান্ডেজ খুলে সেলাইয়ের ওপর চাপ দিতেই পুঁজ বেরেুতে দেখে আরমানকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। স্বজনরা আরমানকে অক্সিজেন যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। নর্থ ইস্ট হাসপাতালের ডাক্তার মির্জা উসমান বিন জানান, ভুল চিকিৎসায় আরমানের পায়ের হাঁটু পর্যন্ত পচন ধরেছে। মাংস খসে পড়ছে। তার পা কেটে ফেলা হতে পারে। দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস জানান, কয়েকবার তার সন্তানের পায়ে অপারেশন করার পরও পচন রোধ করা যাচ্ছে না। আরমানের জ্বরও কমছে না। সে সব সময় বমি করে। হাঁচির সঙ্গে সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। দরিদ্র পিতা হিসেবে আরমানের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে তাকে প্রতিনিয়ত ধার-দেনা করতে হচ্ছে। তিনি ছেলেকে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়া সেই চিকিৎসকের বিচার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মহিবুরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ডাক্তারের পরামর্শেই আরমানের পায়ে সেলাই ও ব্যান্ডেজ করেছেন। তবে, ডা. মেহেদী হাসান ফোন রিসিভ করেও কোনো কথা বলেন নি।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares

দেশ বিদেশের সবগুলো অনলাইন পত্রিকার লিংক

বাংলাদেশের সকল টিভি চ্যানেল

ভিজিটর কাউন্টার

  • ৮৪০
  • ২৯২
  • ৩৫৬,২৪৯