ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুল ছাত্র খুনের ঘটনায় জনমনে সন্দেহের নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯

ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুল ছাত্র খুনের ঘটনায় জনমনে সন্দেহের নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে

  ফেঞ্চুগঞ্জ ঃ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কাসিম আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মাজেদ ইসলামের নিহতের ঘটনায় তোলপাড় দেশ বিদেশ। শোকাহত পুরো সবাই। ঘটনার দিন অর্থাৎ ৫ই সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবারের শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন মাজেদের সহপাঠী সাইফুল ইসলাম সায়েমের ঘুসিতে মাজেদ অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে বলেন মাজেদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সায়েম কে আটক করে পুলিশ। পরে ঘটনার দিনই নিহত মাজেদ কে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। সে পর্যন্ত মাজেদের মুখের বাম দিকে একটা কালো দাগ দেখা গিয়েছিল। সাধারণ ভাবে ধরে নেওয়া হয় হয়ত সায়েমের একটা ঘুসিতে মাজেদ মারা যায়। প্রচারও হয়েছিল সে রকম। কিন্তু পরের দিন অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর অনেক কিছু পাল্টে যায়। জন্ম হয় নানা প্রশ্নের। মাজেদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার নিজ বাড়ি উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে আসে। মাজেদকে গোসলঘরে নেওয়া হয়। এসময় গোসলদাতা ও অন্যান্য লোকজন দেখেন মাজেদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক কালো ছোপছোপ দাগ রয়েছে, খামচির দাগও রয়েছে। উপস্তিতিদের ধারনা হয় মাজেদকে একা কেউ বা একটাই ঘুসি মারা হয়নি। একাধিক জনের কিল-ঘুষিতে মারা যায় সে। ৬সেপ্টেম্বর বাদ আছর সহস্রাধিক লোকজনের অংশগ্রহনে মল্লিকপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু মাজেদের শরীরের অন্যান্য দাগ অনেক প্রশ্ন জন্ম দিয়ে যায়। সে প্রেক্ষিতে আলাপ হয় মাজেদের সহপাঠীদের সাথে। তারা জানায়, ঘটনার আগের দিন ৪ঠা সেপ্টেম্বর বুধবার নিহত মাজেদকে মারেন একই শ্রেনীর আখতারুজ্জামান। এ ঘটনায় শ্রেনীর আরেক ছাত্র ক্লাস শিক্ষক ঋষিকেষ দেব রন্টুকে জানালে তিনি তা নালিশ না শুনেই ধমক দিয়ে বের করে দেন। আর পরের দিন আখতারুজ্জামানের উপস্থিতিতেই মাজেদকে মারে সাইফুল ইসলাম সায়েম! স্থানীয় অবিভাবকরা মনে করছেন, আগের দিনের জেরেই মাজেদকে মারা হয়। আরো অভিযোগ উঠে শ্রেনী শিক্ষদের সময়জ্ঞান নিয়ে। জানা যায়, মাজেদ নিহত হবার দিন, বাংলা ২য় পত্র পাঠদান শেষে বেলা ১২ঃ৫০ এ ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান শ্রেনী শিক্ষক ঋষিকেষ দেব রন্টু। এর পরেই সমাজ বিজ্ঞান ক্লাসে আসার কথা আরেক শ্রেনী শিক্ষক শাহজাহান কবির। কিন্তু তিনি ক্লাসে আসেনই নি! এমনকি উনার পরিবর্তে অন্য শিক্ষকও আসেন নি। যে কারনে শিক্ষকশুন্য শ্রেনীকক্ষে মারামারি ও খুন হওয়ার মত মারামারি ঘটে। এ বিষয়টি প্রশ্ন তোলে যে, মারামারি করে একটা ছাত্র মারা গেল। কেউ কোন চিৎকার শুনলো না! শিক্ষকরা টের পেলেন না! এতটাই অস্বাভাবিক ব্যাপার ঘটে কি করে? অন্য দিকে নিজেকে মানাতে পারছেন না নিহত মাজেদের মা বাবা ও একমাত্র বোন। শোকেকাতর দরিদ্র পরিবারটি জানলোও না কোন অপরাধে একমাত্র পুত্র সন্তানটি খুন হলো। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাদুজ্জামান বাদি হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ০৩/০৯/১৯। ৬ই সেপ্টেম্বর গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম সায়েমকে আদালত প্রেরণ করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ। অন্য দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেইক দাবি তুলছেন, ঘটনার ব্যাপক তদন্তের।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares

দেশ বিদেশের সবগুলো অনলাইন পত্রিকার লিংক

বাংলাদেশের সকল টিভি চ্যানেল

ভিজিটর কাউন্টার